বৈচিত্রময় মরুভুমির আচরণ ও বৈশিষ্ট অবলোকন

সোনালী বালির মরুভুমি
সোনালী বালির মরুভুমি
ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে।কোথাও ঠাণ্ডা, কোথাও গরম, আবার কোথাও বা নাতিশীতোষ্ণ। কোথাও বরফে আবৃত, কোথাও মরু ভূমি। কোথাও সূর্যের আলো অতিরিক্ত, কোথাও সূর্যের আলো অতিরিত্ককম। ভূ-পৃষ্ঠর বিচিত্রতার সাথে সাথে জীব বৈচিত্র্যেরও অনেক তারতম্য ঘটে থাকে। তেমনি মরুভূমির জীববৈশিষ্টের রয়েছে হাজারও রকমফের। এখানকার মানুষ, পশুপাখি, জীবজন্তু, গাছপালা প্রকৃতির সাথে তালমিলিয়ে চলার জন্য প্রতিমূহুর্তে রূপ পরিবর্তন করে থাকে।



মরুভূমির তাপমাত্রা রাতের বেলা কমে যায় এবং দিনের বেলা সূর্যের তাপ অতিমাত্রায় বেড়ে যায়। বিশ্বের সব চেয়ে বড় মরুভূমি সাহারা। এর আয়তন প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন বর্গ কিলো মিটার এবং সর্বোচ্চ রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা ৫৮ ডিগ্রি সে: গ্রে:। সাহারাসহ অত্র অঞ্চলের জীবনযাত্রা অতিমাত্রায় কষ্ট সাধ্য। কিন্তু জীব এখানেও জীবন ধারণ করছে। মানুষ এখানে প্রকৃতিকে শুধু জয়ই করেনি, প্রকৃতির সাথে চ্যালেঞ্জ করে তৈরি করেছে বিশ্বের সর্বোচ্চ ইমারত- দুবাই এর বুরুজ খলিফা। মরুভূমিতে বাস করেই মিশরের ফেরাউন নিজেকে সৃষ্টিকর্তা বলে দাবি করেছিল। এখানেই পৃথিবীর সর্ব শ্রেষ্ঠ মানবের জন্ম।


অতিরিক্ত পানি জমা রাখার জন্য উদ্ভিদের মূল
অতিরিক্ত পানি জমা রাখার জন্যই উদ্ভিদের এমন মূল।
বিজ্ঞানীগণ ধারনা করেন হাজার হাজার বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাহারা মরুর সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন আর্কিওলজিক্যাল ও চিত্রকর্মের প্রমাণ থেকে ধারনা করা হয় প্রায় ৫০০০ বছর আগে এখানে যথেষ্ট ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ এবং তৃণভোজী প্রাণীর বিচরণ ছিল। ২ থেকে ৩ হাজার বছরের পুরাতন আদিম সাইপ্রাস জাতীয় কিছু গাছ রয়েছে যা মরুর বালু থেকেও পানি সংগ্রহ করে বছরের পর বছর বেঁচে থাকতে পারে।


বিশ্ব মানচিত্র লক্ষ্য করলে দেখা যায় ট্রপিক অঞ্চলে বছরের অধিকাংশ সময় সূর্য সরাসরি তাপ দেয়াতে এ অঞ্চলের অধিকাংশ স্থান মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে।কিনত হিমালয়ের হিমবাহ ও অধিকাংশ নদী ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ, মায়ানমার অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে এ অঞ্চল মরুভূমি হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।দিনের বেলা অতি-তাপের ফলে বাষ্প সৃষ্টি হয়ে উপরে উঠে যায় এবং রাতের বেলা তাপ কমে যাওয়ার ফলে বাষ্প ঠাণ্ডা হয়ে নীচে নেমে আসে। ফলে মরুভূমি দিনে গরম এবং রাতে ঠাণ্ডা।


নরম শরীর সূর্য্যের তাপ থেকে রক্ষার জন্য দেহাবরণ
নরম শরীর সূর্য্যের তাপ থেকে রক্ষার জন্যই এমন দেহাবরণ।

অন্যান্য অঞ্চলের মত এখানেও বিভিন্ন জীব বাস করে, কিন্তু পরিবেশের সাথে খাপ-খাওয়ানোর জন্য জীবন যাত্রা ও শারিরীক গঠনে রয়েছে বিভিন্ন বিচিত্রতা।মরু অঞ্চলের জীবজন্তুর মধ্যে সাধারণত দেখা যায় হায়েনা, ফ্যানিক ফক্স, বিভিন্ন ধরনের ইঁদুর, টিকটিকি,কচ্ছপ,সাপ, বিছা, বিভিন্ন ধরনের পাখি প্রভৃতি। দিনের বেলা অধিক তাপ থেকে বাঁচার জন্য সূর্যের আড়ালে অর্থাৎ গর্তের ভিতরে থাকে এবং রাতের বেলা বের হয় শিকার ধরার জন্য। 


সঙ্কোচিত দেহের মরু উদ্ভিদ
সঙ্কোচিত দেহের মরু উদ্ভিদ
মরু অঞ্চলের গাছপালা ও জীবজন্তু প্রতিকুল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য নিজ থেকেই অসাধারণ সব উপায় বের করে নেয়, যেমন- ক্যাকটাস বা শিলা উদ্ভিদ তাদের মাংসল টিসুর মধ্যে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য অতিরিক্ত পানি জমা করে রাখতে পারে।এদের এমন অগভীর মূল ও শিকড় থাকে যা অতি অল্প সময়ে বৃষ্টির পানি মাটি থেকে সংগ্রহ করতে পারে। আবার অনেক ক্যাকটাস জাতিয় উদ্ভিদ যাদের পাতার বিকল্প শুধু কাণ্ড আছে, কোন পাতা বা ডাল-পালা নাই।এদের আকৃতি শুধু লম্বা বা উপরের দিকে হয় এবং গায়ের রং হয় গাঢ় সবুজ। এতে দিনের প্রথম ও শেষ ভাগে যখন সূর্যের তাপ কম থাকে তখন পাতার পরিবর্তে গায়ের চামড়ায় প্রয়োজনীয় খাদ্য তৈরি করে এবং দিনের মধ্যভাগে যখন তাপমাত্রা অধিক তখন লম্বা, আয়তনে ছোট, পাতা বা অতি-সংবেদনশীল অংশ কম থাকায় অর্থাৎ আকারে সংকোচিত থাকায় অতি-তাপের হাত থেকে সহজেই রক্ষা পায়। আবার কোন কোন উদ্ভিদের আকৃতি এমন যে বৃষ্টি বা রাতের কুয়াশার পানি যেন সহজেই গাছের গোঁড়ায় পৌছায় তেমন ব্যবস্থা রয়েছে।


পানি গড়িয়ে গোড়য় যাওয়ার জন্য  এমন আকৃতি
পানি গড়িয়ে গোড়য় যাওয়ার জন্য ও পাতার কাজ কান্ডতেই
 সেরে নেওয়ার  জন্য এমন আকৃতি।
যেসব উদ্ভিদের পাতা আছে সেগুলোও এফিমেরাল জীবন চক্র পদ্ধতিতে বছরের পর বছর বেঁচে আছে।অর্থাৎ কম্পিউটারের বড় ফাইলকে  ZIP করে ছোট আবার প্রয়োজনীয়  সময় unZIP করে বড় করার মত- যখন তাপমাত্রা অধিক ও বৃষ্টির পরিমাণ কম তখন সমস্ত পাতা ও ডাল-পালার নরম অংশ ঝড়ে যায় ফলে আকারে ছোট হয়ে শুধু কাণ্ড বা শাখা-কাণ্ড সঞ্চিত খাবার খেয়ে  বেঁচে থাকে, আবার বৃষ্টির সময় অতি তাড়াতাড়ি নতুন পাতা গজায় ও পরিপূর্ণ জীবনে ফিরে আসে।


লেজই ছাতার কাজ করছে
লেজই ছাতার কাজ করছে
মরুভূমির পাখি বা বড় আকারের প্রাণী অতি গরমের সময় মাইগ্রেট করে গাছপালা সমৃদ্ধ অঞ্চলে বা পাহাড়ের উপর চলে যায়।কিন্তু আকারে ছোট প্রাণী সহজেই অন্যত্র যেতে পারে না, তবে তারা তাদের চারপাশের পরিবেশ নিয়নত্রন করে বা এর সাথে নিজেদের খাপখাইয়ে নেয়।পাখি দিনের বেলায় না উড়ে শক্তি খরচ কমিয়ে দেয়।অন্যান্য সরীসৃপ ও পোকামাকড় দিনের বেলায় গর্তের ভিতর থাকে এবং রাতে খাদ্য সংগ্রহে বের হয়।

দুষ্কর পথ চলা
গরম বালু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পা উচু করে বিশ্রাম নিচ্ছে




কোন কোন প্রাণীর গায়ের বিশেষ আকৃতি প্রতিকুল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য উপযোগী। কোন কোন প্রাণী আবার বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে দুষ্কর পথ চলে।


মরুভুমির ব্যাঙ
মরুভুমির ব্যাঙ



মরুভূমির ব্যাঙ বছরের অধিকাংশ সময়ই মাটি বা বালির নীচে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। যখন বৃষ্টি হয়  তখন বের হয়ে আসে এবং যে স্বল্প সময় পায় অর্থাৎ প্রায় এক সপ্তাহ বৃষ্টির পানি জমা থাকে সেই সময়ের মধ্যেই ডিম দেয়, বাচ্চা ফুটে, বাচ্চা বড় হয়ে পুর্নাঙ্গ ব্যাঙে পরিণত হয়ে আবার পানি শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বেই মাটির নীচে লোকায়ে যায়।এভাবেই নিজেদের বাঁচিয়ে রাখে বছরের পর বছর। 





মরুভুমির বন্য ফুল
মরুভুমির বন্য ফুল




Comments

  1. খুবই মজার পোষ্ট৷ আরও বেশি বেশি মজার পোষ্চ চাই৷

    ReplyDelete
  2. nice and beautiful post.

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

Star Delta Starter Line Diagram and Its Working Principle

ELECTRICAL DISTRIBUTION BOARD DB WIRING

স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি এর বাস্তব ব্যাবহার

SURGE ARRESTERS SPECIFICATION FOR 132 KV & 33 KV LINE

ভুমিকম্পের কল্প কথা

Why DC System Is More Dangerous Than AC System?

All Bangla Newspaper

You Should Know all About Fire Extinguisher Using Guide

CABLE FITTING BOXES AND GLANDS

How Economizer Works in Centrifugal Chiller

wazipoint

DMCA protected