মানব শরীর ভবিষ্যতের পাওয়ার হাউজ





মানব শরীর হতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ



মানব শরীর হতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ  তৈরির পাওয়ার হাউজ। কথাটি শুনতে কেমন সিনেমা-টিক সিনেমা-টিক মনে হলেও বিজ্ঞানীরা কিন্তু  বেশ সিরিয়াসলিই চিন্তা করতে শুরু  করছেন। শরীরের তাপ, নরাচড়া, বিপাক, কম্পন এ সব থেকে ক্ষুদ্র আকারে শক্তি উৎপন্ন করা এক অর্থে বিরোপ জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে ভাল খবরই বটে।


বিদ্যুৎ  কি থেকে তৈরি হয়? কি ভাবে তৈরি হয়? সহজ উত্তর বিদ্যুৎ তৈরি করতে নির্দিষ্ট কোন কাঁচামালের প্রয়োজন হয় না। এটা শুধু এক প্রকার শক্তিকে অন্য প্রকারে রূপান্তর করে মাত্র। এই রূপান্তরিত শক্তির প্রবাহই হল বিদ্যুৎ। আর এই রূপান্তর বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে যেমন- তাপ, চাপ, আলো, কম্পন, ঘূর্ণন, পারমানবিক বা রাসায়নিক বিক্রিয়া ইত্যাদি। বিদ্যুৎ  তৈরির অধিকাংশ উৎসই মানব শরীরে উপস্থিত। 


কিন্তু প্রশ্ন বিদ্যুৎ তৈরির এত এত উৎস থাকতে কেন এই ক্ষুদ্র চিন্তা? এই ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ আমাদের কি কাজে আসতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এটাকে ক্ষুদ্র ভাবছেন না। আর এর প্রয়োজনও কম মনে করেন না।আসলে যেকোনো কিছুর প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব  ক্ষুদ্র বা বৃহৎ আকার বা পরিমাণের উপর নর্ভির করে না। প্রাপ্যতার নির্দিষ্ট   স্থান, কাল ও পরিমাণই মুখ্য বিষয়।


মানব শরীর এখন আর শুধুমাত্র মানব শরীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। যান্ত্রিক মেশিনপত্রও এখন মানব শরীরের অংশ বা প্রতিস্থাপিত অংশে পরিণত হচ্ছে। পেস-মেকার মেশিন, হেয়ারিং ইন্সট্রোমেন্ট, কৃত্রিম চোখ- এসব গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য। দুর্গম মরু বা পাহাড়ি অঞ্চলে বিভিন্ন অভিযানের সময় জিপিএস সিস্টেম বা মোবাইল জাতিয় যোগাযোগ যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য ব্যাটারির রি-চার্জে প্রয়োজন বিদ্যুৎ। আর এসব ক্ষুদ্র কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের জন্য মানব শরীরই হতে পারে অধিক নির্ভরশীল উৎস।



প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাথে সাথে  প্রযুক্তিবিদরা এখন "পিজো-ইলেক্ট্রিসিটি" উৎপাদনের কথা চিন্তা করছেন; যার অর্থ হল চাপ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা। পিজো-ইলেকট্রিক পদার্থ এমন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন যার উপর চাপ প্রয়োগ করলে ভিতরে ক্ষুদ্র শক্তি উৎপন্ন হয়। পদার্থের এই বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধারণ উদাহরণ স্থাপন করা সম্ভব। আর সেটা হল আমাদের হৃদ-পিণ্ড তার চাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একা একাই কৃত্রিম পেস-মেকারকে শক্তি সরবরাহ করতে পারে। এই ধরনের যন্ত্রের খুবই সামান্য পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়- এক ওয়াটের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ পরিমাণ এবং এতে ব্যবহৃত ব্যাটারি কয়েক বছর পর্যন্ত চলতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ইউনিভার্সিটির  ডা. আমিন করিমি বলেন- কৃত্রিম পেস-মেকার হার্ট-বিট থেকে যে পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করতে পারে  তা দিয়ে সারা জীবন চলতে পারে।

 সম্প্রতি লস-এঞ্জেলস এর"এমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশন"  জানিয়েছেন একটি পিজো-ইলেকট্রিক সিরামিকের টুকরার  পুরুত এক ইঞ্চির শত ভাগের এক ভাগ এবং একটি কৃত্রিম পেস-মেকার চলার জন্য যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন তার দশ গুণ বেশি শক্তি বুকের কম্পন থেকে পাওয়া যেতে পারে।


শরীরের বাহিরেও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা যেতে পারে। ন্যানো-প্রযুক্তি গবেষকগণ "পাওয়ার শার্ট" নামে জিংক-অক্সাইড ও সোনার ক্ষুদ্র ডোরা বিশিষ্ট  সুতা দ্বারা শার্ট তৈরি করছেন যা চলাচলের সময় একে অন্যের সাথে ঘর্ষণে বিদ্যুৎ তৈরি করবে। জর্জিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি'র প্রফেসর ঝং লিন্‌ ওয়াং বলেন আমরা নরম, ভাজ করা ও পরিধান যোগ্য বিদ্যুতের উৎস সরবরাহ করতে পারি যা  হাটার সময়  প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে।


ব্রিটেনের নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির ড: মাইকেল পজ্জি "পিজ্জিক্যাটো" নামে একটি শক্তির উৎস তৈরি করেছেন যা  দিয়ে স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন ডিভাইস চালানু সম্ভব। যন্ত্রটি হাঁটুতে সংযোজন করা যায়, এর বাহিরে একটি রিং ও কেন্দ্রীয় হাব থাকে। হাঁটার সময় রিং ঘুরবে ও হাবের সাথে সংযোজিত পিজো-ইলেকট্রিক বাহু  বিদ্যুৎ  তৈরি করবে।


ব্রিশটোল ইউনিভার্সিটির মি. স্টিভ বারোস্‌ হাটার সময় "উপর-নীচ" চলাচলের এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন।  এমনকি আমাদের প্রতি কদম হাটাকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। লবণাক্ত এক ধরনের বিশেষ তরল মাইক্রোস্কোপি আকারে জুতার সোলের ভিতরে স্থাপন করে প্রতি পা থেকে দুই ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এ দিয়ে স্মার্ট-ফোন ও ট্যাবলেট চালানো যাবে।

প্রতি কদম হাটাকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব



বিজ্ঞানীরা মনে করেন পিজো-ইলেকট্রিক ব্যাটারি হাইকিং হিলের ভিতর স্থাপন করে হাইকারদের জন্য জরুরী অবস্থান নির্নয়ক যন্ত্রের  বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যেতে পারে। তেমনি "থার্মোইলেকট্রিক" যার এক প্রান্ত গরম ও অন্য প্রান্ত ঠাণ্ডা করলেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়-এমন শার্ট তৈরি করে শরীরের তাপকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব ও  ব্যবহারকারীর তাপ শোষণ করার ফলে সে ঠাণ্ডা অনুভব করবে।


এমনি অনেক ন্যানো-জেনারেশন সম্ভব যা ভবিষ্যতে আমাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পারে।


ভাল লাগলে দেখতে পারেনঃ

মানব শরীরে বিদ্যুৎ তৈরির কৌশল


                          

Comments

Popular posts from this blog

Star Delta Starter Line Diagram and Its Working Principle

ELECTRICAL DISTRIBUTION BOARD DB WIRING

SURGE ARRESTERS SPECIFICATION FOR 132 KV & 33 KV LINE

TECHNICAL SPECIFICATION AND REFERENCE STANDARD FOR 132 KV CABLE AND ACCESSORIES

Why DC voltage is not Applied in Transformer Input

EARTH ELECTRODE RESISTANCE MEASUREMENT

You Should Know all About Fire Extinguisher Using Guide

How Can Convert Single Phase Power Into Three Phase?

CT (CURRENT TRANSFORMERS) IN ELECTRICAL DISTRIBUTION SYSTEM

wazipoint

DMCA protected