স্বাস্থ্যকর জীবনধারার জন্য পোষাপ্রাণি

স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় পরিবর্তিত হওয়ার জন্য নিরাশতা, মানসিক চাপ, সিদ্ধান্তহীনতা ও রাগ ইত্যাদি বিষয়কে সহজ করে গ্রহণ করার পদ্ধতি কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। আপনার যদি কোন পোষা প্রাণি থাকে যা আপনাকে স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় নেওয়ার জন্য নিম্নোক্ত ভাবে পরিবর্তন করতে পারে-

ব্যায়াম বা শরীর চর্চা বৃদ্ধ করে-প্রতিদিন জিমে গিয়ে একই ধরনের ব্যায়াম আপনাকে সহজেই বিরক্তি ধরাতে পারে; কিন্তু দৈনিক ব্যায়ামের তালিকায় আপনার পোষা কুকুরকে হাটানো, ঘোড়ায় চড়া, অথবা শুধু পোষাপ্রণির সাথে দৌড়াদৌড়ি ও মজা করা রেখেও সুস্থ থাকতে পারেন।

বন্ধুত্ব বজায় রাখা-পৃথকত্ব ও একাকীত্ব মানুষকে অকার্যকারিতা বা নিরাশতা এমনকি আরও খারাবের দিকে নিয়ে যায়। একটা জীবন্ত প্রাণি সাথে থাকলে তা প্রয়োজনীয়তা, চাহিদা ও সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার ইচ্ছা অনুভূতি জাগ্রত করতে সাহায্য করে। অধিকাংশরাই তাদের পোষাপ্রাণির সাথে কথা বলে থাকে, অনেকে আবার তাদের সমস্যাতে পোষাপ্রাণিকে কাজে লাগিয়ে থাকে।


নতুন লোকজনের সাথে মিশতে সহায়তা করা- পোষাপ্রাণি তার মালিকের জন্য বড়ধরনের সামাজিক আঠা হিসেবে কাজ করে। কারণ কুকুরের মালিক প্রায়শই হাটার সময় বা কুকুরের পার্কে থামে  ও অন্যের সাথে কথা বলে। অন্যান্য পোষাপ্রাণির মালিকরাও  দোকান, আড্ডায় বা বিভিন্ন ক্লাসে অন্যদের সাথে আলোচনা করে থাকে।

ভীতি কমানো- যখন কারো সাথে একটি পোষা কুকুর থাকে তখন সে নিজেকে অনেকটা আয়েশি ও আত্মবিশ্বাসী মনে করে এবং মনে করা হচ্ছে দিন দিন ভীতি পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছে।


দৈনন্দিন কাজের কাঠামো ও নিয়মানুবর্তিতা তৈরি হওয়া- অনেক পোষাপ্রাণি বিশেষ করে কুকুরের  জন্য দৈনন্দিন খাদ্য ও ব্যায়ামের তালিকা থাকতে হবে। এটা বিবেচ্য বিষয় নয় যে আপনি আনন্দিত না দুঃখিত, রাগান্বিত না শান্ত, যথাসময়ে আপনাকে ঘুম থেকে উঠতে হবে এবং বিছানা ছাড়তে হবে কারণ আপনার পোষাপ্রাণিকে খাওয়াতে হবে, ব্যায়াম করাতে হবে ও তার যত্ন নিতে হবে।

মানসিক চাপ কমানোর চাবি-কাঠি-অতি তাড়াতাড়ি মানসিক চাপ কমানোর সহজ ও কার্যকর উপায় হল পোষাপ্রাণিকে স্পর্শ ও নড়াচড়া করা। বেশি ভাল হয় যদি বিড়ালকে আদর করা যায় বা কুকুরকে হাটানো যায়।

বৃদ্ধদের জন্য পোষাপ্রাণি:

 জীবনের বিভিন্ন বড় বড় পরিবর্তনের সাথে যেমন-অবসর গ্রহণ, ভালবাসার কোন লোককে হারানো,বয়োবৃদ্ধ কারণে শারীরিক পরিবর্তন হওয়া, এসময় পোষা-প্রাণী বিভিন্ন উপায়ে স্বাস্থ্যকর সময় অতিবাহিতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে:

জীবনের মানে ও আনন্দ খুঁজে পেতে সহায়তা করে: মানুষ বৃদ্ধ হওয়ার সাথে  সাথে সে  তার  ব্যস্ত ও অর্থবহ সময়কে হারিয়ে ফেলে। সে তার পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করে ও সন্তান  তার থেকে দুরে সরে যায়। এসময় একটি পোষাপ্রাণিই তাকে আনন্দ দিতে পারে এবং তার স্পৃহা ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে। পোষাপ্রাণির দেখাশুনা করে আত্বসমৃদ্ধি উপলব্ধি করতে পারে;

 যোগাযোগ রক্ষা করে: বৃদ্ধ বয়সে সামাজিক যোগাযোগ রক্ষাকরা সবসময় সহজ হয় না। অবসর, অসুস্থতা, মৃত্যু এবং স্থানান্তর পরিবারের সদস্য ও নিকট আত্মীয়দেরও দুরে সরিয়ে দেয়। এসময় নতুন বন্ধু জোগাড় করাও সহজ নয়। নতুন লোকের সাথে মিশা ও কথোপকথনে পোষা কুকুর এসময় বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে;

জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করে: নিজের প্রতি ভাল ভাবে যত্ন নিয়ে বয়ো-বৃদ্ধিজনিত অনেক চ্যালেঞ্জই মোকাবেলা করা সম্ভব। এক্ষেত্রে পোষাপ্রাণি খেলাধুলা, আনন্দ-ফুর্তি ও ব্যায়াম করতে অনুপ্রাণিত করে যা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করে।

শিশুদের জন্য পোষাপ্রণি:

কচ্ছপ একটি সুন্দর পোষাপ্রাণী


যেসব শিশু পোষাপ্রাণির সাথে বেড়ে উঠে তাদের শুধু এলার্জি ও এ্যজমা হওযার সম্ভাবনা কম তাইনা, তারা পোষাপ্রাণি থেকে দায়িত্বশীলতা, দয়াশীলতা ও ধর্য্যশীলতাসহ অন্যান্য গুণাবলি অর্জন করে। শিশুদের সাথে পোষাপ্রাণি কখনও ক্রিটিক্যাল আচরণ বা নির্দেশ প্রদান করে না। এরা বাড়িতে সবসময়  শিশুদের সাথে বন্ধু-সুলভ সঙ্গ দেয় এবং শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় একটি কুকুর বা বিড়াল শিশুর পাশে থাকলে মাতা-পিতা নিশ্চিন্তে দূরে থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে অনেক রাগী শিশুদেরও পোষাপ্রাণি অতিকার্যকরি ভাবে শান্ত স্বভাবে পরিবর্তন করতে পারে। অবশ্য শিশু ও পোষাপ্রাণি উভয়কেই সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন।

শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ই পোষাপ্রাণির সাথে খেলা করে প্রশান্তি ও আনন্দ লাভ করতে পারে, মন ও দেহকে করতে পারে উজ্জিদ্বিত। পোষাপ্রাণির সাথে খেলা শিশুর শিখার  পথকে করে সুগম। এটা শিশুর চিন্তাশক্তি ও আগ্রহকে বাড়িয়ে তুলে। 

Comments

Popular posts from this blog

Star Delta Starter Line Diagram and Its Working Principle

ELECTRICAL DISTRIBUTION BOARD DB WIRING

MCB: MINIATURE CIRCUIT BREAKER OPERATION BASIC

EARTH ELECTRODE RESISTANCE MEASUREMENT

SURGE ARRESTERS SPECIFICATION FOR 132 KV & 33 KV LINE

CURRENT TRANSFORMERS –CT USING

বৈচিত্রময় মরুভুমি

ELCTRICITY MYTH AND FACT

STEP AND TOUCH POTENTIAL: REDUCE ELECTRICAL HAZARD AND IMPROVE SAFETY AWARENESS

wazipoint

DMCA protected

The content is copyright protected to wazipoint and may not be reproduced on other websites.