ধর্য্য বাঁচার নেশায়

মরুভুমির গুল্ম জাতিয় গাছ

 নীচরে লতা-গুল্মগুলো উত্তপ্ত মরু অঞ্চলের যেখানে বছেরর অধিকাংশ সময় তাপমাত্রা ৫০ ডিঃ সেঃ এর কাছা-কাছি থাকে। আবার বছরে ৫/৭ দিনের বেশি বৃষ্টিও হয় না। এত বেশি তাপমাত্রায় পাথরের উপর এমন নরম প্রকৃতরি উদ্ভিদকে টিকে থাকতে অনেক বেশি কষ্ট সহ্য করতে হয়। ছবিতে যেমন দেখতে পাচ্ছেন, বছরেরর ্অধকাংশ সময়ই কাটে  এমন মৃত অবস্থায়। যদিও বৃষ্টি হওয়ার পর ১/২ দিনের মধ্যে অতি ধ্রুত পুনঃরায় পাতায়-পাতায় ভরে যায়।কিন্ত পূর্ন জীবনের স্বাদ ২/৩ সপ্তাহের বেশি নিতে পারে না।প্রচন্ড তাপে পাতা ও কান্ডের নরম অংশ পুঁড়ে ঝঁড়ে যায়। অবশিষ্ট সামান্য কিছু কঙ্কাল নিয়ে ধর্য্য ধরে থাকতে হয় পরের বছর আবার কখন বৃষ্টি হবে।
মরুভুমির জীবন বৃষ্টির অফেক্ষা

মরুভুমির জীবন অনেক কস্টকর

দু:খিতঃ ছবিগুলো সাধরন মোবাইল দিয়ে তোলা, ফলে স্পষ্টার অভাব রয়েছে।

মরু অঞ্চলের গাছপালা ও জীবজন্তকে বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট ধর্য্য ধারণ করে বছরের অধিকাংশ সময় পার করতে হয়; চিত্রের গুল্মটি দেখে কিছুটা অনুমান করা যেতে পারে।

কিন্ত মরু অঞ্চলের জীবজন্তরা শুধু ধর্য্য ধারণ করার উপরই নির্ভর করে থাকেনা; প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট কৌশলও অবলম্বন করে থাকে।

মরু অঞ্চলের গাছপালা ও জীবজন্ত প্রতিকুল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য নিজ থেকেই অসাধারণ সব উপায় বের করে নেয়, যেমন- ক্যাকটাস বা শীলা উদ্ভিদ তাদের মাংসাল টিসুর মধ্যে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য অতিরিক্ত পানি জমা করে রাখতে পারে।এদের এমন অগভীর মূল ও শিকড় থাকে যা অতি অল্প সময়ে বৃষ্টির পানি মাটি থেকে সংগ্রহ করতে পারে। আবার অনেক ক্যাকটাস জাতিয় উদ্ভিদ যাদের পাতার বিকল্প শুধু কান্ড আছে, কোন পাতা বা ডাল-পালা নাই।এদের আকৃতি শুধু লম্বা বা উপরের দিকে হয় এবং গায়ের রং হয় গাঢ় সবুজ। এতে দিনের প্রথম ও শেষ ভাগে যখন সূর্য্যের তাপ কম থাকে তখন পাতার পরিবর্তে গায়ের চামড়ায় প্রয়োজনিয় খাদ্য তৈরি করে এবং দিনের মধ্যভাগে যখন তাপমাত্রা অধিক তখন লম্বা, আয়তনে ছোট, পাতা বা অতিসংবেদনশীল অংশ কম থাকায় অর্থাত্ আকারে সঙ্কোচিত থাকায় অতিতাপের হাত থেকে সহজেই রক্ষা পায়আবার কোন কোন উদ্ভিদের আকৃতি এমন যে বৃষ্টি বা রাতের কোয়াশার পানি যেন সহজেই গাছের গোড়ায় পৌছায় তেমন ব্যাবস্থা রয়েছে।

যেসব উদ্ভিদের পাতা আছে সেগুলোও এফিমেরাল জীবন চক্র পদ্ধতিতে বছরের পর বছর বেঁচে আছে।অর্থাত্ কম্পিউটারের বড় ফাইলকে  ZIP করে ছোট আবার প্রয়োজনীয়  সময় unZIP করে বড় করার মত- যখন তাপমাত্রা অধিক ও বৃষ্টির পরিমান কম তখন সমস্ত পাতা ও ডাল-পালার নরম অংশ ঝড়ে যায় ফলে আকারে ছোট হয়ে শুধু কান্ড বা শাখা-কান্ড সঞ্চিত খাবার খেয়ে  বেঁচে থাকে, আবার বৃষ্টির সময় অতি তারাতারি নতুন পাতা গঁজায় ও পরিপূর্ণ জীবনে ফিরে আসে।

মরুভুমির পাখি বা বড় আকারের প্রাণী অতি গরমের সময় মাইগ্রেট করে গাছপালা সমৃদ্ধ অঞ্চলে বা পাহাড়ের উপর চলে যায়।কিন্ত আকারে ছোট প্রাণী সহজেই অন্যত্র যেতে পারে না, তবে তারা তাদের চারপাশের পরিবেশ নিয়ন্ত্রন করে বা এর সাথে নিজেদের খাপখাইয়ে নেয়।পাখি দিনের বেলায় না উড়ে শক্তি খরচ কমিয়ে দেয়।অন্যান্য স্বরিস্রিপ ও পোকামাকড় দিনের বেলায় গর্তের ভিতর থাকে এবং রাতে খাদ্য সংগ্রহে বের হয়।

কোন কোন প্রাণীর গায়ের বিশেষ আকৃতি প্রতিকুল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য উপযোগী। কোন কোন প্রাণী আবার বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে দুস্কর পথ চলে।

মরুভুমির ব্যাঙ বছরের অধিকাংশ সময়ই মাটি বা বালির নীচে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। যখন বৃষ্টি হয়  তখন বের হয়ে আসে এবং যে স্বল্প সময় পায় অর্থাত প্রায় এক সপ্তাহ বৃষ্টির পানি জমা থাকে সেই সময়ের মধ্যেই ডিম দেয়, বাচ্ছা ফুটে, বাচ্ছা বড় হয়ে পুর্নাঙ্গ ব্যাঙে পরিনত হয়ে আবার পানি শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বেই মাটির নীচে লোকিয়ে যায়এভাবেই নিজেদের বাঁচিয়ে রাখে বছরের পর বছর।

আমরা মানুষেরা প্রকৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনে ধর্য্য ধারণের অভ্যাস করতে পারলে অন্যের প্রতি নৈতিক-অনৈতিক উভয় ধরনের নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বি ভাবে বেঁচে থাকার কৌশল রপ্ত করতে পারি।




Comments

Popular posts from this blog

Star Delta Starter Line Diagram and Its Working Principle

ELECTRICAL DISTRIBUTION BOARD DB WIRING

SURGE ARRESTERS SPECIFICATION FOR 132 KV & 33 KV LINE

স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি এর বাস্তব ব্যাবহার

ভুমিকম্পের কল্প কথা

Why DC System Is More Dangerous Than AC System?

CABLE FITTING BOXES AND GLANDS

You Should Know all About Fire Extinguisher Using Guide

All Bangla Newspaper

How Economizer Works in Centrifugal Chiller

wazipoint

DMCA protected