পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম ব্যাঙের শ্রবণ রহস্য


গার্ডিনার ব্যাঙ পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম। সবচেয়ে দীর্ঘতমটি হল ১১ মি.মি.। ক্ষুদ্রতমটি পরিমাপ করা হয়েছে মাত্র ৩ মি.মি. দৈর্ঘ্য। এরা বাদামী রং এর হয় এবং মুখ থেকে মাথা পর্যন্ত গাঢ় ডোরা কাটা দাগ থাকে।

পৃথিবীর ক্ষুদ্র গার্ডিনার ব্যাঙভারত মহাসাগরীয় দ্বীপ সিছিলি, প্রায় ৪৭ থেকে ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা এই দ্বীপের ক্ষুদ্র প্রাণী গার্ডিনার ব্যাঙ । সম্প্রতি ইউএস জার্নাল ন্যাশনাল একাডেমী অব সাইন্স জানিয়েছে  বিঞ্গানীরা এই দ্বীপের ব্যাঙ নিয়ে গবেষণা করে এক রহস্যের সমাধান করেছেন। আর তা হল এই ক্ষুদ্র ব্যাঙ কান ছাড়াই শুনতে পায়। এরা মুখগহ্বর ও টিসুর সাহায্যে শব্দ তরঙ্গকে এম্প্লিফাই করে অন্তঃকর্ণে পাঠিয়ে দেয় এবং সেখান থেকে ব্রেইনে প্রবেশ করে। 

মানুষের মত ব্যাঙের বাহিরের কোন কান নাই। তবে মাথায় স্থাপিত কানের ড্রামসহ মধ্য-কর্ণ থাকে। আগত শব্দ তরঙ্গ এই ড্রামকে ভাইব্রেট করে ফলে মধ্য-কর্ণে একধরনের সিগনাল তৈরি হয় আর শ্রবণ-টিসু এই সিগনালকে বৈদ্যুতিক সিগনাল আকারে ব্রেইনে প্রেরণ করে।

সুন্দর প্রকৃতি


বিঞ্গাণিরা পূর্বে ধারনা করে ছিল মধ্য-কর্ণ ছাড়া  ব্রেইনের পক্ষে সরাসরি শব্দ নির্ণয় করা অসম্ভব। কারণ শতকরা ৯৯.৯ ভাগ শব্দ তরঙ্গই পরাণির ত্বকের উপরি ভাগে প্রতিফলিত হয়ে পরাণির কাছে পৌঁছে।



গার্ডিনার ব্যাঙ একে অন্যের সাথে যোগাযোগের জন্য শব্দ ব্যবহার করে কিনা জানার জন্য বিঞ্গাণীরা এদের আবাস স্থলের আশেপাশে স্ত্রী ব্যাঙের শব্দ রেকর্ড করে লাউড স্পীকারের সাহায্যে বাজিয়ে রাখে।

এতে দেখা যায় পুরুষ ব্যাঙ ডাকে সারা দেয়ার জন্য হাজির হয়; যা থেকে বিঞ্গানীরা বুঝতে পারে যে এরা লাউডস্পিকারের শব্দ শুনতে পেয়েছে।


ব্যাঙের যোগাযোগ প্রকৃয়া


বিশেষঞ্গরা এরপর বধির ব্যাঙ কিভাবে শব্দ শুনতে পায় তা নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়। অবশ্য ধারনাকৃত প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল- ফুসফুস, হাড়, পেশি ও অন্তঃকর্ণ,  প্রভৃতি।



বিঞ্গাণিরা এই ক্ষুদ্র প্রাণির নরম টিসু ও হাড়ের মাইক্রোমিটার রেজুলেশনের এক্স-রে ছবি তুলে জানার চেষ্টা করেন শরীরের কোন অংশ শব্দ তরঙ্গ প্রবাহের সাথে সংশ্লিষ্ট। এতে শব্দ অন্তঃকর্ণে পৌঁছানোর জন্য পালমোনারি সিস্টেম বা পেশীর কোন অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়নি। তবে দেখা যায় যে শব্দ গৃহীত হয়েছে মাথার সাহায্যে এবং এক্ষেত্রে মুখ শব্দ তরঙ্গের অনুনাদ বা এমপ্লিফায়ার হিসেবে কাজ করেছে। 
ব্যাঙের শ্রবণ ইন্দ্রিয়


বিভিন্ন ধরনের সিন্ক্রোট্রন এক্স-রে ছবির সাহায্যে দেখা যায় যে, শব্দ তরঙ্গ মুখগহ্বর থেকে অন্তঃকর্ণে নিখুঁতভাবে পৌঁছানোর জন্য মুখ ও অন্তঃকর্ণের মধ্যবর্তী কম পুরুত্বের টিসু এবং স্বল্প সংখ্যক টিসুর স্তর গুরুত্বপূর্ণ প্রধান ভূমিকা পালন করে।



অবশেষে বিঞ্গাণীরা রহস্য উদ্ঘাটন করেন যে মুখগহবর ও হাড় পরিবহনের সমন্বয়ে গার্ডিনার ব্যাঙ মধ্য-কর্ণ ছাড়া কার্যকরী শব্দ উপলব্ধির কাজ করে থাকে বলে মনে করেন।






Comments

Popular posts from this blog

Star Delta Starter Line Diagram and Its Working Principle

ELECTRICAL DISTRIBUTION BOARD DB WIRING

স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি এর বাস্তব ব্যাবহার

SURGE ARRESTERS SPECIFICATION FOR 132 KV & 33 KV LINE

ভুমিকম্পের কল্প কথা

Why DC System Is More Dangerous Than AC System?

All Bangla Newspaper

You Should Know all About Fire Extinguisher Using Guide

CABLE FITTING BOXES AND GLANDS

How Economizer Works in Centrifugal Chiller

wazipoint

DMCA protected